শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বানিয়াচংয়ে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দু’পক্ষের ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ আহত ১৫জন।।মুমূর্ষু অবস্থায় একজনকে সিলেট প্রেরন।। বৃক্ষপ্রেম থেকে সফল নার্সারি ব্যবসায়ী, বকুল মিয়ার দুঃখ সংগ্রাম সফলতা ও জীবনের গল্প। আবারো প্রমান মিললো রমজান রাত প্রায় ৩ টা নাগাত ! মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। সাপাহারে পুলিশের উদ্যোগে পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ বাংলাদেশে এই প্রথম বৌদ্ধ সমাজে ২০ কোটি টাকা বাজেটে ৫ তলা বিশিষ্ট সংঘ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্থর বানিয়াচংয়ে বৃদ্ধ‘র মৃত্যু রহস্য ঘিরে ধু্ম্রজালের সৃষ্টি ফুলপুরে দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে মানবতার পরিচয় দিল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। কুড়িগ্রামে কৃষক লীগের ৪৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত “আয়োজন করা হলো অনলাইন সিলেটি কুইজ প্রতিযোগিতা-২.০” সংবাদ সম্মেলন।। গ্রাম্য মাতব্বরদের ইন্ধন,বানিয়াচংয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় নারী আহত। বসতঘর ভেঙ্গে দেওয়ায় খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন।

রাজনগরে পরনের কাপড় ছাড়া সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সুফিয়ার

ফেরদৌসুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের রাজনগরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে লাগা আগুনে মাথা গোজার ঠাঁইসহ পুড়ে গেছে সুফিয়ার ছোট্ট সংসার। মুহূর্তের আগুনে এলোমেলো হয়ে গেছে স্বামী পরিত্যক্তা ৬৫ বছরের এই বৃদ্ধার জীবন। পেটের ক্ষুদা নিবৃত্ত করতে হাত পাতছেন মানুষের কাছে।

সোমবার (১ মার্চ) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াঙ্কা পাল এই তথ‌্যের সত‌্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের পশ্চিম খলাগ্রামে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর থেকে গত ১৫ দিন ধরে বিভিন্ন জনের বাড়িতে রাত্রী যাপন করছেন সুফিয়া।

বার্ধক্যজনিত নানা রোগের কারণে কাজ করতে না পারায় জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাধ্য হয়ে মানুষের কাছে হাত পাতছেন তিনি।

এদিকে, তার ১৫ বছর বয়সি ছেলেটি ট্রাকের হেলপারের কাজ করছে। জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে একই উপজেলার মেদিনিমহল এলাকার হামদু মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সুফিয়ার।

এর আগে আরেকটি বিয়ে করেছিলেন সুফিয়ার স্বামী হামদু। ৩ বছর আগে হামদু মিয়া সুফিয়াকে ছেড়ে চলে যান।

এরপর থেকে কোনো খবর রাখেন না সুফিয়ার। বাড়ির পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দোকান ও বাজারে পানি বহনের কাজ করে কোনো রকম চলতো সুফিয়ার সংসার। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের পর সুফিয়া এখন নিঃস্ব।

স্থানীয়রা জানান, সুফিয়ার কোনো জায়গা সম্পত্তি না থাকায় আব্দুল বাছিতের বাড়িতে ভাড়া ছাড়াই থাকতেন সুফিয়া। এটা পুড়ে যাওয়ায় এখন আর তার মাথা গোঁজার জায়গা নেই। সুফিয়া বেগম জানান, বিদ্যুতের আগুনে সবকিছু ছাই হয়ে গেছে। পরনের কাপড় ব্যতীত আর কিছু নেই। সকলের কাছে সহযোগিতার আহবান জানান তিনি।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী কামরান আহমদ জানান, আগুনে বাড়ি পুড়ে যাওয়ার পর সুফিয়া রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বেঁচে থাকার তাগিদে ভিক্ষা করছেন। অনেকেই সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু আদৌ কেউ সহায়তা করেননি।

খুব কষ্টে দিনযাপন করছেন সুফিয়া। এ বিষয়ে মুন্সিবাজার ইউপি চেয়ারম্যান সালেক মিয়া জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহায়তায় সুফিয়া বেগমের জন্য একটি বাড়ির ব্যবস্থা করা হবে।

ইউএনও প্রিয়াঙ্কা পাল জানান, সুফিয়া বেগমের জন্য দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি।

প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। পরবর্তীতে জায়গা পাওয়া গেলে একটি বাড়ির ব্যবস্থা করা হবে।

সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017 আজকের তাজা খবর
Design & Developed BY Suhag Rana